রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণার আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে এ বৈঠকে বসেছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা করেন দলীয় প্রধান। এর পরই বর্তমান দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

এর আগে গত ১ অগাস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রার্থী ঠিক করার দায়িত্বভার পেয়ে দলের চেয়ারম্যান এ কয়েকদিন ফোনে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মতামত নেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে ঠিক করা প্রার্থীর নাম জানাতে বৃহস্পতিবার বৈঠক ডাকা হয়।

এতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নেতারাও অংশ নেন। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন ভবনে জমা দেওয়া হবে। তফসিল অনুযায়ী, এদিনই মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন।

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

এবার বিরোধী জামায়াত জোট প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হতে যাচ্ছে। এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদকে প্রার্থী করছে বিরোধী ১১ দলীয় ঐক্য।

আগামী ২০ অগাস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলই তাতে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।

বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।