
সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও অনুদান বিতরণকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন এমপি ও তৃণমূল নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা বেড়েছে। একের পর এক বিতর্কে দলটির ভাবমর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়ায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার, বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনপ্রতিনিধিদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে দলটি।
সম্প্রতি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির তাজুল ইসলাম সরকারি বরাদ্দের একটি বাইসাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে দরিদ্র পরিবারের নাতনিকে দেওয়া সাইকেলটি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টির ব্যাখ্যা দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এর আগে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক অনুদানের (২১ জনের জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা) তালিকায় তার মেয়ের নাম থাকার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠার পর তিনি নতুন তালিকা করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে অনুদান বিতরণ, ব্যক্তিগত সহকারীকে অব্যাহতি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তার পরও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা থামেনি।
এসব ঘটনার পাশাপাশি জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে জামায়াতের কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যও বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে। নীলফামারী-৪ আসনের এমপি আব্দুল মুনতাকিম তার জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে তিনি ভুল স্বীকার করে ওই বক্তব্য সংশোধন করেন। এছাড়া সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দেওয়ার দাবি জানিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের এমপি মিজানুর রহমান ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দেন সরকারদলীয় সদস্যরাও।
সম্প্রতি এ ধরনের কয়েকটি বিতর্কিত ইস্যু রাজনৈতিক অঙ্গন ও মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় এমপি ও তৃণমূল নেতাদের এসব কর্মকাণ্ডে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন জামায়াতের হাইকমান্ড ও সাধারণ নেতাকর্মীরা। এতে রাজনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দলটি। বিভিন্ন ঘটনায় বিতর্কিত নেতাদের দল বা পদ থেকে বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটছে। অন্যদিকে নাগরিক হিসেবে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জামায়াত পরিবারের দরিদ্র সদস্যরা। এ অবস্থায় জামায়াত নেতাকর্মীদের আরো সতর্ক থাকা উচিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আমার দেশকে বলেন, যেকোনো সংগঠনেই মানবিক ভুল হতে পারে, তবে কিছু গণমাধ্যম জামায়াতের ক্ষেত্রে ছোট ঘটনাকেও বড় করে উপস্থাপন করছে। তার দাবি, অন্য রাজনৈতিক দলের বড় ধরনের ঘটনাও অনেক সময় একইভাবে আলোচিত হয় না। প্রতিপক্ষরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে এ ধরনের কাজ করছে এবং মিডিয়ার একটি অংশ ক্ষমতাসীন দলের ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ নিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি কখনো কখনো যা ঘটেনি-এমন বিষয়ে অপপ্রচারের জবাব দিতে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, অনেকে নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, পার্লামেন্টারি নর্মস বা নিয়ম-কানুন বোঝার ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। সে কারণে দলীয়ভাবে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল কমে আসে।
Leave a Reply