
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ চললেও একই সময়ে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। অন্যদিকে তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্ভাব্য এই সম্পৃক্ততা এবং মংলা বন্দরের কাছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ দিল্লির নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পাশাপাশি বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করছে ঢাকা।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর ঢাকার পররাষ্ট্রনীতির নতুন অগ্রাধিকারও স্পষ্ট করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর গত মাসে প্রথম সরকারি বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের গন্তব্য নির্বাচনই বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত বহন করছে। যদিও সফরের শুরু ছিল মালয়েশিয়া দিয়ে, তবে চীন সফরকেই বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার নবনির্বাচিত নেতাদের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে ভারতকেই বেছে নেয়ার রীতি রয়েছে। সে কারণে ভারতের অনেকেই মনে করছেন, তারেক রহমানের চীন সফর ছিল দিল্লির উদ্দেশে একটি কূটনৈতিক বার্তা। কারণ, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
সফরে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মধ্যে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা এবং মংলা বন্দরের কাছে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তার নিয়ে ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই দুটি উদ্যোগ দিল্লিতে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নিলেও উচ্চপর্যায়ের সফর এড়িয়ে চলে ভারত।
Leave a Reply